বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নির্মিত হলো ভালোবাসা দিবসে উপলক্ষে নাটক “প্রত্ননারী” হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-সাটিয়াজুরী রাস্তার নির্মাণ কাজ পরিদর্শন: রৌমারীতে ” শীতার্তদের উষ্ণতা সরবরাহে সহানুভূতি যুব সংঘ’ চুনারুঘাট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে গরু বিতরণ ভবানীপুর ইউনিয়নের এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃশাহীনুর মল্লিক জীবন  লালপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি “মোংলায় করোনা প্রতিরোধে ব্র্যাকের গণনাটক প্রদর্শন” শ্রীমঙ্গলে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র, মাস্ক ও খাবার বিতরণ শ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পোটকা মাছ খেয়ে বউ শ্বাশুড়ির মৃত্যু হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ কলিমনগরে সড়ক দূর্ঘটনায় চিকিৎসকসহ নিহত দুই জন

“আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা”

ড. মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম: আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা ইসলাম মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ দ্বীন বা জীবনবিধান। এটিই মানবজাতির মুক্তির পথ। ইসলাম মহান আল্লাহর নিকট মনোনীত একমাত্র ধর্ম। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মের বিষয়টি একেবারেই ব্যতিক্রম। একমাত্র ইসলামই জীবনঘনিষ্ট ধর্ম; যা ধার্মিক মানুষকে প্রকৃত সৎ মানুষে পরিণত করে। ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান এমন যে, মহান আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক প্রেমের ও স্মরণের সম্পর্ক তৈরি হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সাপ্তাহিক নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ দৈনন্দিন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইবাদত ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে নিয়মিত বাধ্যতামূলক আত্মীক-আধ্যাত্মিক অনুশীলন অব্যাহত থাকে। এজন্য ধর্ম পালনকারী ধার্মিক মুসলিম সমাজের অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হন। আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেমন : সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি ইসলাম : “দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভুত”-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তারপর সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোন প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। আল্লাহর ভয়ই মানবমর্যাদার মাপকাঠি : সমাজে মানুষ ও মানুষের মিলনের ভিত্তি শুধু জন্মগত নয় বরং তা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটা বিশ্বাস এবং জীবনের একটা আদর্শ। যে ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালাকে নিজের মালিক ও প্রভু বলে স্বীকার করবে এবং নবীর প্রচারিত বিধানকে নিজ জীবনের একমাত্র আইন বলে গ্রহণ করবে, সে ব্যক্তিই ইসলামী সমাজের অন্তর্ভূক্ত হতে পারবে, হোক সে আফ্রিকার অধিবাসী কিংবা আমেরিকার, আর্য হোক কিংবা অনার্য, কালো হোক কিংবা হিন্দি ভাষাভাষি হোক কিংবা আরবী ভাষাভাষি। ইসলামে যার চরিত্র অধিকতর ভাল এবং অন্যান্য লোক অপেক্ষা যার মনে আল্লাহর ভয় অনেক বেশী মানব সমাজে একমাত্র তারই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হবে। মহান আল্লাহর বাণী : “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই-ই সর্বাধিক সম্মানিত; যে অধিক আল্লাহকে ভয় করে।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১৩) বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি : ইসলামী সমাজের বৈশিষ্ট্য যে, এটা বংশ ও ভাষার সমস্ত বৈষম্য এবং ভৌগলিক সীমারেখা চূর্ণ করে পৃথিবীর কোণে কোণে বিস্তৃত হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে দুনিয়ার নিখিল মানুষের এক বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হতে পারে। মহান আল্লাহর বাণী : “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১০) আদর্শ পরিবার গঠন পদ্ধতি : মানব সমাজের প্রাথমিক ও বুনিয়াদী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার। পরিবারই হচ্ছে মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। আর এ মূল ভিত্তির সুস্থতা ও শক্তির উপর স্বয়ং তামাদ্দুনের সুস্থতা ও শক্তি একান্তভাবে নির্ভর করে। এ জন্যেই ইসলাম সর্বপ্রথম এ পরিবার প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর শুদ্ধ ও মযবুত বুনিয়াদের উপর স্থাপন করার দিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আর এ পরিবার শুরু হয় একজন পুরুষ ও একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে। পারস্পরিক মিলনের ফলেই হয় এ পরিবারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা। এ মিলনের ফল স্বরূপ এক নতুন বংশের সৃষ্টি হয়। সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় বৈধ দাম্পত্যজীবনের নির্দেশ : সভ্যতার বিকাশ সাধনে মানবতা রক্ষার জন্য মানবশিশুর জন্মের পবিত্রতা সুরক্ষার জন্য বৈধ দাম্পত্য জীবন হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত এক অমোঘ বিধান। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন : “আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের জুড়ি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রগাঢ় প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে হৃদ্যতা ও মমতা ঢেলে দিয়েছেন।” (সূরা র্আ-রূম, ২১) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের পরিচায়। ইসলাম সমাজের মধ্যে একে অপরের প্রতি সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে আত্মীয়দের সাথে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ আল্লাহর আনুগত্যের প্রকাশ : ইসলামের অপর একটি নির্দেশনা হলো সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ বলেন : ‘আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুণœ রাখে, ভয় করে তাদের প্রতিপালককে এবং ভয় করে কঠোর হিসাবকে।’ (সূরা আর-রা‘দ, ২১) আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম : ইসলামী সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব। তাই যদি কেউ দুনিয়ায় সমাজে কারো সাথে বা কোনো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহলে মহান আল্লাহ্ও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন : ‘রেহেম’ (রক্তের বাঁধন) ‘রহমানের’ অংশ বিশেষ। সে বলবে, ‘হে প্রভু! আমি মাযলুম, আমি ছিন্নকৃত। হে প্রভু! আমার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। হে প্রভু! হে প্রভু! তখন তার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা জবাব দিবেন, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, যে ব্যক্তি তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব এবং যে তোমাকে যুক্ত করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখব?’ (তায়্যিবুল কালাম ফী সিলাতিল রাহিম, পৃ. ১) খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম : ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। যার মূল মন্ত্র হলো আল্লাহর ভীতি ব্যক্তির মনে জাগ্রত করা। যা অন্য ধর্মগুলোতে পরিলক্ষিত হয় না। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় ইসলামী বিধান পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে খোদাভীতি অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ্ বলেন : “এবং সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উত্তোলন করে ধরেছিলাম। আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা শক্ত করে ধর এবং তাতে যা কিছু লেখা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা, ১৩) ১০. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : ইসলাম এমন একটি ঐশী ধর্ম যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নির্দেশ করেছে। মহান আল্লাহর বাণী : “হে মু’মিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও। ” (সূরা আন-নিসা, ১৩৫) ইসলাম একটি সার্বজনীন ও মানবতার ধর্ম। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে ইসলামের দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ মহান বিধান সমাজে বাস্তবায়ন হলে মানবজীবন সুখি-সমৃদ্ধি হয়ে সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠা খুবই সহজ হয়ে যাবে।আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা ইসলাম মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ দ্বীন বা জীবনবিধান। এটিই মানবজাতির মুক্তির পথ। ইসলাম মহান আল্লাহর নিকট মনোনীত একমাত্র ধর্ম। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মের বিষয়টি একেবারেই ব্যতিক্রম। একমাত্র ইসলামই জীবনঘনিষ্ট ধর্ম; যা ধার্মিক মানুষকে প্রকৃত সৎ মানুষে পরিণত করে। ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান এমন যে, মহান আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক প্রেমের ও স্মরণের সম্পর্ক তৈরি হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সাপ্তাহিক নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ দৈনন্দিন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইবাদত ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে নিয়মিত বাধ্যতামূলক আত্মীক-আধ্যাত্মিক অনুশীলন অব্যাহত থাকে। এজন্য ধর্ম পালনকারী ধার্মিক মুসলিম সমাজের অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হন। আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেমন : সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি ইসলাম : “দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভুত”-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তারপর সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোন প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। আল্লাহর ভয়ই মানবমর্যাদার মাপকাঠি : সমাজে মানুষ ও মানুষের মিলনের ভিত্তি শুধু জন্মগত নয় বরং তা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটা বিশ্বাস এবং জীবনের একটা আদর্শ। যে ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালাকে নিজের মালিক ও প্রভু বলে স্বীকার করবে এবং নবীর প্রচারিত বিধানকে নিজ জীবনের একমাত্র আইন বলে গ্রহণ করবে, সে ব্যক্তিই ইসলামী সমাজের অন্তর্ভূক্ত হতে পারবে, হোক সে আফ্রিকার অধিবাসী কিংবা আমেরিকার, আর্য হোক কিংবা অনার্য, কালো হোক কিংবা হিন্দি ভাষাভাষি হোক কিংবা আরবী ভাষাভাষি। ইসলামে যার চরিত্র অধিকতর ভাল এবং অন্যান্য লোক অপেক্ষা যার মনে আল্লাহর ভয় অনেক বেশী মানব সমাজে একমাত্র তারই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হবে। মহান আল্লাহর বাণী : “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই-ই সর্বাধিক সম্মানিত; যে অধিক আল্লাহকে ভয় করে।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১৩) বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি : ইসলামী সমাজের বৈশিষ্ট্য যে, এটা বংশ ও ভাষার সমস্ত বৈষম্য এবং ভৌগলিক সীমারেখা চূর্ণ করে পৃথিবীর কোণে কোণে বিস্তৃত হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে দুনিয়ার নিখিল মানুষের এক বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হতে পারে। মহান আল্লাহর বাণী : “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১০) আদর্শ পরিবার গঠন পদ্ধতি : মানব সমাজের প্রাথমিক ও বুনিয়াদী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার। পরিবারই হচ্ছে মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। আর এ মূল ভিত্তির সুস্থতা ও শক্তির উপর স্বয়ং তামাদ্দুনের সুস্থতা ও শক্তি একান্তভাবে নির্ভর করে। এ জন্যেই ইসলাম সর্বপ্রথম এ পরিবার প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর শুদ্ধ ও মযবুত বুনিয়াদের উপর স্থাপন করার দিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আর এ পরিবার শুরু হয় একজন পুরুষ ও একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে। পারস্পরিক মিলনের ফলেই হয় এ পরিবারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা। এ মিলনের ফল স্বরূপ এক নতুন বংশের সৃষ্টি হয়। সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় বৈধ দাম্পত্যজীবনের নির্দেশ : সভ্যতার বিকাশ সাধনে মানবতা রক্ষার জন্য মানবশিশুর জন্মের পবিত্রতা সুরক্ষার জন্য বৈধ দাম্পত্য জীবন হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত এক অমোঘ বিধান। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন : “আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের জুড়ি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রগাঢ় প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে হৃদ্যতা ও মমতা ঢেলে দিয়েছেন।” (সূরা র্আ-রূম, ২১) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের পরিচায়। ইসলাম সমাজের মধ্যে একে অপরের প্রতি সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে আত্মীয়দের সাথে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ আল্লাহর আনুগত্যের প্রকাশ : ইসলামের অপর একটি নির্দেশনা হলো সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ বলেন : ‘আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুণœ রাখে, ভয় করে তাদের প্রতিপালককে এবং ভয় করে কঠোর হিসাবকে।’ (সূরা আর-রা‘দ, ২১) আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম : ইসলামী সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব। তাই যদি কেউ দুনিয়ায় সমাজে কারো সাথে বা কোনো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহলে মহান আল্লাহ্ও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন : ‘রেহেম’ (রক্তের বাঁধন) ‘রহমানের’ অংশ বিশেষ। সে বলবে, ‘হে প্রভু! আমি মাযলুম, আমি ছিন্নকৃত। হে প্রভু! আমার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। হে প্রভু! হে প্রভু! তখন তার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা জবাব দিবেন, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, যে ব্যক্তি তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব এবং যে তোমাকে যুক্ত করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখব?’ (তায়্যিবুল কালাম ফী সিলাতিল রাহিম, পৃ. ১) খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম : ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। যার মূল মন্ত্র হলো আল্লাহর ভীতি ব্যক্তির মনে জাগ্রত করা। যা অন্য ধর্মগুলোতে পরিলক্ষিত হয় না। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় ইসলামী বিধান পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে খোদাভীতি অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ্ বলেন : “এবং সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উত্তোলন করে ধরেছিলাম। আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা শক্ত করে ধর এবং তাতে যা কিছু লেখা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা, ১৩) ১০. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : ইসলাম এমন একটি ঐশী ধর্ম যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নির্দেশ করেছে। মহান আল্লাহর বাণী : “হে মু’মিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও। ” (সূরা আন-নিসা, ১৩৫) ইসলাম একটি সার্বজনীন ও মানবতার ধর্ম। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে ইসলামের দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ মহান বিধান সমাজে বাস্তবায়ন হলে মানবজীবন সুখি-সমৃদ্ধি হয়ে সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠা খুবই সহজ হয়ে যাবে।আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা ইসলাম মানবজাতির জন্য পরিপূর্ণ দ্বীন বা জীবনবিধান। এটিই মানবজাতির মুক্তির পথ। ইসলাম মহান আল্লাহর নিকট মনোনীত একমাত্র ধর্ম। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মের বিষয়টি একেবারেই ব্যতিক্রম। একমাত্র ইসলামই জীবনঘনিষ্ট ধর্ম; যা ধার্মিক মানুষকে প্রকৃত সৎ মানুষে পরিণত করে। ইসলাম ধর্মের বিধিবিধান এমন যে, মহান আল্লাহর সাথে সার্বক্ষণিক প্রেমের ও স্মরণের সম্পর্ক তৈরি হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামায, সাপ্তাহিক নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ দৈনন্দিন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইবাদত ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে নিয়মিত বাধ্যতামূলক আত্মীক-আধ্যাত্মিক অনুশীলন অব্যাহত থাকে। এজন্য ধর্ম পালনকারী ধার্মিক মুসলিম সমাজের অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত হন। আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেমন : সমাজ ব্যবস্থার ভিত্তি ইসলাম : “দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভুত”-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তারপর সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোন প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। আল্লাহর ভয়ই মানবমর্যাদার মাপকাঠি : সমাজে মানুষ ও মানুষের মিলনের ভিত্তি শুধু জন্মগত নয় বরং তা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটা বিশ্বাস এবং জীবনের একটা আদর্শ। যে ব্যক্তিই আল্লাহ তায়ালাকে নিজের মালিক ও প্রভু বলে স্বীকার করবে এবং নবীর প্রচারিত বিধানকে নিজ জীবনের একমাত্র আইন বলে গ্রহণ করবে, সে ব্যক্তিই ইসলামী সমাজের অন্তর্ভূক্ত হতে পারবে, হোক সে আফ্রিকার অধিবাসী কিংবা আমেরিকার, আর্য হোক কিংবা অনার্য, কালো হোক কিংবা হিন্দি ভাষাভাষি হোক কিংবা আরবী ভাষাভাষি। ইসলামে যার চরিত্র অধিকতর ভাল এবং অন্যান্য লোক অপেক্ষা যার মনে আল্লাহর ভয় অনেক বেশী মানব সমাজে একমাত্র তারই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হবে। মহান আল্লাহর বাণী : “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই-ই সর্বাধিক সম্মানিত; যে অধিক আল্লাহকে ভয় করে।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১৩) বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি : ইসলামী সমাজের বৈশিষ্ট্য যে, এটা বংশ ও ভাষার সমস্ত বৈষম্য এবং ভৌগলিক সীমারেখা চূর্ণ করে পৃথিবীর কোণে কোণে বিস্তৃত হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে দুনিয়ার নিখিল মানুষের এক বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপিত হতে পারে। মহান আল্লাহর বাণী : “মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা ভ্রাতৃগণের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো।” (সূরা আল-হুজুরাত, ১০) আদর্শ পরিবার গঠন পদ্ধতি : মানব সমাজের প্রাথমিক ও বুনিয়াদী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবার। পরিবারই হচ্ছে মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি। আর এ মূল ভিত্তির সুস্থতা ও শক্তির উপর স্বয়ং তামাদ্দুনের সুস্থতা ও শক্তি একান্তভাবে নির্ভর করে। এ জন্যেই ইসলাম সর্বপ্রথম এ পরিবার প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর শুদ্ধ ও মযবুত বুনিয়াদের উপর স্থাপন করার দিকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আর এ পরিবার শুরু হয় একজন পুরুষ ও একজন নারীর বিবাহের মাধ্যমে। পারস্পরিক মিলনের ফলেই হয় এ পরিবারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা। এ মিলনের ফল স্বরূপ এক নতুন বংশের সৃষ্টি হয়। সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় বৈধ দাম্পত্যজীবনের নির্দেশ : সভ্যতার বিকাশ সাধনে মানবতা রক্ষার জন্য মানবশিশুর জন্মের পবিত্রতা সুরক্ষার জন্য বৈধ দাম্পত্য জীবন হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত এক অমোঘ বিধান। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন : “আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের জুড়ি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রগাঢ় প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে হৃদ্যতা ও মমতা ঢেলে দিয়েছেন।” (সূরা র্আ-রূম, ২১) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা : আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের পরিচায়। ইসলাম সমাজের মধ্যে একে অপরের প্রতি সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে আত্মীয়দের সাথে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ আল্লাহর আনুগত্যের প্রকাশ : ইসলামের অপর একটি নির্দেশনা হলো সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা। মহান আল্লাহ বলেন : ‘আর আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আদেশ করেছেন যারা তা অক্ষুণœ রাখে, ভয় করে তাদের প্রতিপালককে এবং ভয় করে কঠোর হিসাবকে।’ (সূরা আর-রা‘দ, ২১) আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম : ইসলামী সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব। তাই যদি কেউ দুনিয়ায় সমাজে কারো সাথে বা কোনো আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহলে মহান আল্লাহ্ও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন : ‘রেহেম’ (রক্তের বাঁধন) ‘রহমানের’ অংশ বিশেষ। সে বলবে, ‘হে প্রভু! আমি মাযলুম, আমি ছিন্নকৃত। হে প্রভু! আমার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। হে প্রভু! হে প্রভু! তখন তার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা জবাব দিবেন, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, যে ব্যক্তি তোমাকে ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব এবং যে তোমাকে যুক্ত করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখব?’ (তায়্যিবুল কালাম ফী সিলাতিল রাহিম, পৃ. ১) খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম : ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। যার মূল মন্ত্র হলো আল্লাহর ভীতি ব্যক্তির মনে জাগ্রত করা। যা অন্য ধর্মগুলোতে পরিলক্ষিত হয় না। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় ইসলামী বিধান পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে খোদাভীতি অর্জিত হয়। মহান আল্লাহ্ বলেন : “এবং সেই সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তূর পাহাড়কে তোমাদের উপর উত্তোলন করে ধরেছিলাম। আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা শক্ত করে ধর এবং তাতে যা কিছু লেখা আছে তা স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” (সূরা আল-বাকারা, ১৩) ১০. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা : ইসলাম এমন একটি ঐশী ধর্ম যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নির্দেশ করেছে। মহান আল্লাহর বাণী : “হে মু’মিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও। ” (সূরা আন-নিসা, ১৩৫) ইসলাম একটি সার্বজনীন ও মানবতার ধর্ম। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে ইসলামের দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ মহান বিধান সমাজে বাস্তবায়ন হলে মানবজীবন সুখি-সমৃদ্ধি হয়ে সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠা খুবই সহজ হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


      এ জাতীয় আরো খবর..