সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
চুনারুঘাট প্রবাসী গ্রুপের সেক্রেটারি নুরুল কালাম আযাদ দরবেশ’র নামে ফান্ডের টাকা আত্মসাদের অভিযোগ নড়াইলে গৃহবধু আত্মহত্যার ২৪ দিন পর প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা শশুর গ্রেফতার ত্রিশালে বৈধ মুক্তিযোদ্ধা ১১৩ জন,অবৈধ ৪১ জন নড়াইলে দু’মাদক কারবারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা অষ্টমীরচর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তালেব ফকিরের নির্বাচনী গণসংযোগ চুনারুঘাটে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়ার নার্সের হাতের সিনিয়র নার্স আহত জামাল হোসেন খোকনের ভোট চাইলেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নির্মিত হলো ভালোবাসা দিবসে উপলক্ষে নাটক “প্রত্ননারী” হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-সাটিয়াজুরী রাস্তার নির্মাণ কাজ পরিদর্শন:

একজন ইংরেজী শিক্ষক খাইরুল ইসলামের গল্প

মাহফুজুর রহমান,তারাকান্দা প্রতিনিধিঃ ইতিহাস ঐতিহ্যে অনন্য ময়মনসিংহ জেলাধীন তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে ঘেরা ছায়া সুনিবিড় শান্ত নিরিবিলি ছোট্ট একটি গ্রাম আমশোলা।এই গ্রামের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা , নেই কোন মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত এ গ্রামের মানুষদের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্ন পূরণের অদম্য প্রয়াস এগ্রামটিকে আজ গোটা দেশের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।ঠিক তারই একটি বাস্তব রূপ খাইরুল ইসলাম সোহাগ।ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, দূরদর্শী ও সৎ সাহসের অধিকারী।সকল প্রকার প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জীবন সংগ্রামের স্রোতে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তিনি ছোটবেলা থেকেই মনেপ্রাণে লালন করেছিলেন।ফলশ্রুতিতে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শালীহর হাজী আমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও গৌরীপুর সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন।এরপর তিনি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দমোহন কলেজ থেকে ইংরেজী বিভাগে দারুণ কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

এছাড়া তিনি প্রথম শ্রেণীতে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করার পাশাপাশি আইসিটি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একটি কন্যা সন্তানের জনক।কর্মজীবনে তিনি অনেকদিন গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষকতাসহ একাধিক সেক্টরে কাজ করেছেন। উল্লেখ্য তিনি ত্রিশাল উপজেলায় ULTRCE তে ২০১৫ সাল থেকে ইংরেজী বিষয়ের উপর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত দুখু মিয়া বিদ্যানিকেতনে ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।উল্লেখ্য গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই হতাশ ও কিছুটা মানসিক চাপে ভুগছে।এমতাবস্থায় বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিজ্ঞ শিক্ষক খাইরুল ইসলাম সোহাগ ভাবলেন দুঃসময়ে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে কিছু করা যায় কিনা।এরপর থেকেই তিনি মূলত অনলাইন ক্লাসের উপর গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এখন পর্যন্ত তিনি পাঁচটি অনলাইন পেইজে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে অনেক উপকৃত হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক খাইরুল ইসলাম সোহাগ বলেন “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা।এটি এমন একটা প্লাটফর্ম যেখান থেকে আপনি তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি গাইডলাইন করতে পারবেন।

এজন্য তিনি এই মহান পেশাটাকে বেঁচে নিয়েছেন।”তিনি বলেন করোনা মহামারীতে শিক্ষার্থীরা যখন হতাশ তখন তাদের কল্যাণার্থে কিছু করতে পেরেছি বলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি আরোও বলেন সকল শিক্ষার্থীদের কাছে এখন স্মার্টফোন নেই।তাই কিছু শিক্ষার্থী এক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে।স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতা না থাকা এসকল শিক্ষার্থীদের পাশে সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আজকের তরুণেরাই আগামীদিনের ভবিষ্যত। তরুণেরা যথাযথ শিক্ষা পেলে তারাই আগামী দিনের সত্যিকারের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।তাই তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষা অর্জনের আহবান জানান তিনি।বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী খাইরুল ইসলাম সোহাগ আরো বলেন “আমি যে গ্রাম থেকে বেড়ে উঠেছি সেটি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত একটি গ্রাম।এগ্রামকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। অদূর ভবিষ্যতে এই এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে থাকার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও অংশীদার হতে চাই।” এক্ষেত্রে তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন


      এ জাতীয় আরো খবর..