বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
নির্মিত হলো ভালোবাসা দিবসে উপলক্ষে নাটক “প্রত্ননারী” হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-সাটিয়াজুরী রাস্তার নির্মাণ কাজ পরিদর্শন: রৌমারীতে ” শীতার্তদের উষ্ণতা সরবরাহে সহানুভূতি যুব সংঘ’ চুনারুঘাট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে গরু বিতরণ ভবানীপুর ইউনিয়নের এ যাবতকালের সবচেয়ে বেশি ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃশাহীনুর মল্লিক জীবন  লালপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি “মোংলায় করোনা প্রতিরোধে ব্র্যাকের গণনাটক প্রদর্শন” শ্রীমঙ্গলে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্র, মাস্ক ও খাবার বিতরণ শ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পোটকা মাছ খেয়ে বউ শ্বাশুড়ির মৃত্যু হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ কলিমনগরে সড়ক দূর্ঘটনায় চিকিৎসকসহ নিহত দুই জন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘরবন্দী শিক্ষার্থীরা কিভাবে অতিবাহিত করছে তাদের সময়

আবু সাহাদাৎ বাঁধন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ পৃথিবীতে এখন করোনার রাজত্ব।প্রতিটি শিক্ষার্থী এখন ঘরবন্দী।করোনাকালীন সময় কেমন কাটছে তাদের সময় এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম।তাদের চাই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, তাদের প্রিয় মতিহারের সবুজ চত্তরে একসাথে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে। রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা খাতুন বলেন,শিক্ষার্থী হিসেবে বাসায় খুব বেশি পড়াশোনা করছি সেটা বলতে পারবো না। এখন ধরেই নিয়েছি লেখাপড়া কবে শুরু হবে কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাসায় টুকটাক কাজ,রান্নাবান্না করছি,কয়েকজন স্টুডেন্ট হয়েছে বাসায় তাদের কে পড়াচ্ছি। বাসায় তেমন কোনো বইপত্র না থাকায় পিডিএফ একমাত্র ভরসা। একাডেমিক বই কিছুই পড়িনি, কিছু উপন্যাস, গল্প, নাটক পড়েছি, পড়ছি এখন পর্যন্ত। সবমিলিয়ে যদি বলি, এখন যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় আমি চাই এখনই ক্যাম্পাসে ফিরে যাবো। যেকোনো পরিস্থিতি ভালো খারাপ যাই হোক না কেনো এক জায়গায় অনেক দিন আছি, নিজের পরিবারের কাছে,নিজের কাছে আলাদা চাপ মনে হচ্ছে। এছাড়াও মন মেজাজ খারাপ হয়ে যায় হুট করে এতোদিন বাসায় থাকার ফলে এমন চেঞ্জ সবার হচ্ছে বলে মনে করি।কথায় আছে বোঝার উপর শাকের আটি বর্তমান পরিস্থিতি তে আমাদের মতো ছেলেমেয়েরা যারা বাসায় আছি তারা অন্তত বুঝতে পারছি, মা বাবার কাছে আমরা অতি আদরের বলার অপেক্ষা রাখেনা । আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এই পরিস্থিতি যেনো খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর আমি ক্যাম্পাসে ফিরে যাবো। ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী খায়রুন নাহার আলো বলেন,বাড়িতে থেকে গল্পের বই পড়ি,রং তুলি নিয়ে আঁকাআকি করে সময় কাটছে।তার কাছে ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগ্রহ জানতে চাইলে তিনি বলেন,ক্যাম্পাসে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা টা তীব্রতর হয়ে উঠছে প্রতিক্ষণে।আগের মতো ব্যস্ততা,তড়িঘড়ি করে সকালে উঠে ক্যাম্পাসের জন্য রওনা হওয়া,বারবার ঘড়ি দেখা,এই বুঝি ক্লাস শুরু হলো লেট হলাম বুঝি ওই মুহুর্ত গুলি,ক্লাস,,ক্লাসের বিরতিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গল্প-শয়তানি,সিরাজি ভবন,ক্লাস শুরুর আগে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা,গল্প করা,আমাদের ফারসি চত্ত্বর এ চা খাওয়া ক্যাফেটেরিয়ার আড্ডাগুলি,ইবলিশ এর মাঠে আমাদের গল্পের আসর,প্যারিস রোডে হেটে যাওয়া,নীল-সাদা বাস,,কিংবা কাজলা গেটে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা সব কিছুই মিস করি…. আমার মনে হয় নিজের এক বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় এসেছি,নিজের এক পরিবার ছেড়ে নিজের অন্য পরিবারে এসেছি।সেদিনের তীব্র অপেক্ষায় আছি যেদিন রাজশাহীর জন্য টিকেট কাটবো আবার হবে সাড়ে পাচ ঘন্টার যাত্রা…..সেদিনের অপেক্ষা যেদিন আবারো কাজলা গেট দিয়ে প্রবেশ করবো আমার ক্যাম্পাসে.. আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হামজা বলেন,আমি বাড়িতে পারিবারিক কাজ করছি,পড়ালেখা মোটামুটি করি।তিনি আরো বলেন মিস করছি টুকিটাকিতে বসে ক্লাসের মাঝের আড্ডাগুলি,খুব দ্রুত ফিরতে চাই আমার স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। জেনেটিক্স ইন্জিনিয়ারিং এ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুজ্জাম স্নিগ্ধের বলেন,,শুয়ে বসে এবং একটু একটু লেখাপড়া করে সময় পার করছি।তিনি আরো বলেন যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম মনে হতো এবার বাড়িতে গেলে আর আসবো না কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ক্যাম্পাসই আমার বাড়ি। তাছড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছি,সবারই একই কথা দ্রুত ফিরতে চাই মতিহারের সবুজ চত্তরে।মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছে,সময় যতই বিরুদ্ধে যাক।প্রতিটি শিক্ষার্থী আশায় বুক বেঁধে আছে,পরিস্থিতি একদিন ভালো হবে তারা ফিরবে তাদের স্বপ্নের জায়গায়।

নিউজটি শেয়ার করুন


      এ জাতীয় আরো খবর..